ডিম্বাশয়ের টিউমার: লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ডিম্বাশয় নারীর প্রজনন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা ডিম্বাণু এবং নারীর হরমোন (যেমন ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন) উৎপাদন করে। ডিম্বাশয়ে যদি কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড বা ফোলা তৈরি হয়, তাকে সাধারণভাবে ডিম্বাশয়ের টিউমার বলা হয়। এই শব্দটি শুনে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কারণ অনেকে টিউমার মানেই ক্যান্সার ভেবে নেন। তবে জেনে রাখা ভালো যে সব টিউমার ক্যান্সার নয়। অনেক টিউমার সৌম্য প্রকৃতির (benign), অর্থাৎ তারা ক্ষতিকর নয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় সেরে যায়। আবার কিছু টিউমার সত্যি সত্যি ক্যান্সারজনিত (malignant), যা দ্রুত ছড়াতে ও বাড়তে পারে। তাই ডিম্বাশয়ের টিউমার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি – যাতে সময়মতো লক্ষণ চিনে নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ করা যায়। আসুন, ডিম্বাশয়ের টিউমার কেন হয়, এর লক্ষণ কী, চিকিৎসার উপায় এবং প্রতিরোধে কী করা যায় তা জেনে নিই।

ডিম্বাশয় টিউমার কী?

সহজভাবে বললে, টিউমার হল কোষের এক ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত পিণ্ড। ডিম্বাশয়ের টিউমার হলে ডিম্বাশয়ে একটি ফোলা বা দলা অনুভব হতে পারে। টিউমার দুই প্রকারের হতে পারে: সৌম্য (benign) – যা ক্যান্সার নয় এবং শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়ায় না, এবং ক্যান্সারজনিত (malignant) – যা ক্যান্সার, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ে ও আশপাশে ছড়াতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের টিউমারগুলো সৌম্য হয়। উদাহরণ হিসেবে ডিম্বাশয়ের সাধারণ সিস্টগুলো (পানি ভর্তি থলি) সৌম্য প্রকৃতির এবং অনেক সময় এমনিতেই মিলিয়ে যায়। অন্যদিকে, ম্যালিগন্যান্ট টিউমার অর্থাৎ ডিম্বাশয় ক্যান্সার তুলনামূলক কম হলেও বেশি বিপজ্জনক। ডিম্বাশয় ক্যান্সার সাধারণত বয়স্ক নারীদের বেশি হয় এবং এগুলো প্রায়শই ডিম্বাশয়ের পৃষ্ঠতলের কোষ থেকে (এপিথেলিয়াল কার্সিনোমা) শুরু হয়। তবু তরুণীদেরও ডিম্বাশয়ে টিউমার হতে পারে – যেমন কিছু বিরল ক্ষেত্রে জার্ম সেল টিউমার (ডিম্বাণু উৎপাদক কোষের টিউমার) বা স্ট্রোমাল টিউমার (হরমোন উৎপাদক কোষের টিউমার) দেখা যায়। যেটাই হোক না কেন, ডিম্বাশয়ে কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কথা জানলে ডাক্তারকে দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি, কারণ বাহ্যিকভাবে শুধু লক্ষণ দেখে বোঝা কঠিন এটি সৌম্য না ম্যালিগন্যান্ট।

লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে ডিম্বাশয়ের টিউমার (বিশেষ করে ক্যান্সার) তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও দিতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলেও তা অন্যান্য সাধারণ সমস্যার মতো লাগতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকলে এবং আগের তুলনায় বেশি অনুভূত হলে সতর্ক হওয়া দরকার:

  • পেলভিক বা তলপেটে স্থায়ী ব্যথা বা চাপ: তলপেটের নিচের দিকে প্রচ্ছন্ন ব্যথা, ভারভাব বা চাপ অনুভূত হতে থাকলে।
  • পেট ফোলা বা ফুলে যাওয়া: পেটে ক্রমাগত ফুলোভাব বা অস্বাভাবিক স্ফীতিভাব দেখা গেলে।
  • ক্ষুধামন্দা ও দ্রুত পেট ভরে যাওয়া: অল্প খেয়ে পেট ভরা লাগা এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ক্ষুধা কমে যাওয়া।
  • ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা: অযথা ওজন কমতে থাকা, সবসময় দুর্বল ও ক্লান্ত অনুভব করা।
  • প্রস্রাব বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন: বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য/ঘন ঘন পায়খানা হওয়া – বড় টিউমার আশেপাশের অঙ্গ চাপলে এমন হতে পারে।
  • মাসিকের অনিয়ম বা অস্বাভাবিক রক্তপাত: নিয়মিত পিরিয়ডে হঠাৎ অনিয়ম দেখা দেওয়া, অত্যধিক রক্তপাত হওয়া, অথবা মেনোপজের পরে যোনীপথে রক্তপাত হওয়া।

এ লক্ষণগুলো অন্য অসুখেও হতে পারে। কিন্তু যদি এগুলো একযোগে বা ক্রমাগত উপস্থিত থাকে এবং আপনার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের সাথে মিলছে না, তাহলে দয়া করে গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক অবস্থায় সমস্যাটি ধরতে পারলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যায়।

কারণ ও ঝুঁকি

ডিম্বাশয়ে টিউমার (বিশেষ করে ক্যান্সার) কেন হয় তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়, তবে কিছু ঝুঁকির কারণ রয়েছে যেগুলি একে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়:

  • বয়স: বয়স বাড়ার সাথে ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। মেনোপজ-উত্তীর্ণ মহিলাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
  • পারিবারিক ইতিহাস ও জিনগত ফ্যাক্টর: যদি আপনার মা, বোন বা নিকট আত্মীয়ের ডিম্বাশয় বা স্তনের ক্যান্সর হয়ে থাকে, আপনার নিজের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিছু বংশগত জিনের পরিবর্তন (যেমন BRCA1/BRCA2) এ ধরনের ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ায়।
  • কখনও গর্ভধারণ না করা: যারা কখনও গর্ভধারণ করেননি বা দেরিতে প্রথম সন্তান নিয়েছেন, তাদের ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা যায়।
  • ওজন ও জীবনধারা: স্থূলতা (অতিরিক্ত ওজন) ডিম্বাশয় ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • হরমোন থেরাপি: মেনোপজের উপসর্গ দূর করতে যদি দীর্ঘদিন ইস্ট্রোজেন-প্রোজেস্টেরন হরমোন থেরাপি নেয়া হয়, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে।

ঝুঁকি উপাদান থাকলেই যে ডিম্বাশয়ের টিউমার হবে এমন নয় – শুধু সম্ভাবনা কিছুটা বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি কম বা বেশি যা-ই হোক, নিজের স্বাস্থ্যের লক্ষণগুলোর প্রতি সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রোগ নির্ণয়

ডিম্বাশয়ে টিউমার সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার প্রথমে আপনার লক্ষণের ইতিহাস জানবেন এবং শারীরিক পরীক্ষা করবেন। এর অংশ হিসেবে একটি পেলভিক পরীক্ষা করা হয়, যেখানে হাত দিয়ে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো (ডিম্বাশয়, জরায়ু) অনুভব করে দেখা হয় কোনো ফোলা বা ব্যথার স্থান আছে কিনা। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড করা হয় – বিশেষ করে ট্রান্সভাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড, যা যোনীপথে একটি ছোট প্রোব প্রবেশ করিয়ে ডিম্বাশয়ের স্পষ্ট ছবি দিতে পারে। আল্ট্রাসাউন্ডে টিউমারের আকার-আকৃতি ও প্রকৃতি (তরলভর্তি নাকি কঠিন) সম্পর্কে ধারণা মেলে। প্রয়োজনে আরও বিস্তারিত জানার জন্য CT স্ক্যান বা MRI করা হতে পারে। এছাড়া রক্ত পরীক্ষায় CA-125 সহ কিছু টিউমার মার্কার পর্যবেক্ষণ করা হয় – CA-125 ক্যান্সারের উপস্থিতিতে বেড়ে যেতে পারে, তবে এটি অন্য কারণেও বাড়তে পারে বলে এটি একমাত্র নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়। চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অস্ত্রোপচার ও বায়োপসি প্রয়োজন হতে পারে – অর্থাৎ একটি অপারেশনের মাধ্যমে টিউমার/ডিম্বাশয় অপসারণ করে সেটির টিস্যু পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয় ক্যান্সার কোষ আছে কিনা। অনেক সময় সন্দেহজনক ক্ষেত্রে চিকিৎসক ল্যাপারোস্কপি (পেটের মধ্যে সরু ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচার) করে একই সাথে টিউমারটি সরিয়ে ফেলেন এবং ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠান।

চিকিৎসা

ডিম্বাশয়ের টিউমার হলে তার চিকিৎসা টিউমারের ধরণ, পর্যায় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে কয়েকটি প্রধান চিকিৎসা-পদ্ধতি রয়েছে:

  • অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: অনেক ছোট ও সৌম্য ডিম্বাশয়ের সিস্ট তৎক্ষণাৎ অপসারণের দরকার হয় না। চিকিৎসক কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে পারেন – এই সময়ে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নজর রাখবেন টিউমারটি বড় হচ্ছে কিনা। প্রায়ই এ ধরনের সিস্ট নিজে থেকেই সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এদিকে যদি হালকা ব্যথা-অসুবিধা থাকে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে হবে।
  • ওষুধ ও হরমোন থেরাপি: কিছু ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা হরমোনাল ওষুধ দেওয়া হয় যা নতুন সিস্ট হওয়া রোধ করে এবং ছোট সিস্টগুলি মিলিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া উপসর্গ উপশমের জন্য পেইন কিলার বা অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
  • শল্যচিকিৎসা (অস্ত্রোপচার): যদি টিউমারটি বড় হয়, বাড়তে থাকে, বা ক্যান্সারের সন্দেহ থাকে – তাহলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করতে হয়। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপিক (ক্ষুদ্র চেরা) পদ্ধতিতে ডিম্বাশয় বা টিউমার সরানো যায়। টিউমার যদি বিনাইন হয়, তবে শুধু টিউমারটুকু বা আক্রান্ত ডিম্বাশয় অপসারণ করা হয় এবং বাকি অঙ্গ محفوظ রাখা হয়। কিন্তু ক্যান্সার হলে রোগের মাত্রা অনুযায়ী ডিম্বাশয়, জরায়ু, আশেপাশের কিছু লিম্ফ নোড ইত্যাদিও অপসারণ করতে হতে পারে, যাতে রোগ ছড়িয়ে না থাকতে পারে। যেসব রোগীর বয়স কম এবং ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের ইচ্ছা আছে, তাদের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে একটি ডিম্বাশয় ও জরায়ু রেখে শুধুমাত্র আক্রান্ত ডিম্বাশয়টি সরানোর চেষ্টা করা হয়।
  • কেমোথেরাপি: যদি টিউমারটি ক্যান্সারজনিত হয়ে থাকে, তবে সার্জারির পর কেমোথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। কেমোথেরাপি হলো বিশেষ শক্তিশালী ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা, যা শরীরের অবশিষ্ট ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করতে কাজ করে। এটি সাধারণত কয়েক ধাপে দেওয়া হয়। কেমোথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন বমিভাব, ক্লান্তি, চুল পড়া) থাকতে পারে, কিন্তু এগুলো সাময়িক এবং চিকিত্সকরা এসব উপশমের ব্যবস্থাও করে থাকেন। সঠিক মাত্রায় পুরো কোর্স সম্পন্ন করলে কেমোথেরাপি অনেক ক্ষেত্রে জীবনরক্ষা করে।

চিকিৎসা শেষ হলেও আপনাকে নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হবে। ডাক্তার নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবেন যে টিউমার বা ক্যান্সার ফিরে আসছে কিনা। আপনারও উচিত পরবর্তীতে শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন অনুভব করলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারকে জানানো।

প্রতিরোধ

পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধের কোন উপায় নেই। তবে কিছু প্রতিকার ও সচেতনতা মেনে চললে ঝুঁকি কমানো এবং রোগটি প্রাথমিক স্তরে ধরার সম্ভাবনা বাড়ানো যায়:

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বছরে অন্তত একবার গাইনিকোলজিস্ট দ্বারা একটি পেলভিক চেকআপ করান। বিশেষ করে আপনার বয়স ৪০-এর ওপরে হলে বা পরিবারে ডিম্বাশয়/স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে এই নিয়মিত পরীক্ষাটি অত্যন্ত জরুরি।
  • পারিবারিক ঝুঁকি সম্পর্কে পদক্ষেপ: যদি পরিবারে ডিম্বাশয় বা স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, ডাক্তারকে অবশ্যই জানান। প্রয়োজনে ডাক্তার জেনেটিক কাউন্সেলিং বা জিন পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। কোনো উচ্চ ঝুঁকির জিন পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ পরিকল্পনা করা যায়।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহার: দীর্ঘমেয়াদে মুখে খাবার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে (গবেষণায় দেখা গেছে)। তবে কোনো ওষুধ শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে এবং সবার জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে।
  • সুস্থ জীবনধারা চর্চা: সুষম খাদ্যগ্রহণ, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও সুস্থ ওজন বজায় রাখা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি কমায়। প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ধূমপান থেকেও বিরত থাকুন।
  • লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা: সবচেয়ে বড় বিষয় হল নিজের দেহের পরিবর্তনগুলোর প্রতি নজর রাখা। তলপেটের ফোলা, অস্বাভাবিক ব্যথা, হজম বা প্রস্রাবের সমস্যাগুলি যদি নতুনভাবে শুরু হয়ে অব্যাহত থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে সম্পূর্ণ নিরাময় সহজ হয়।

উপসংহার

ডিম্বাশয়ের টিউমার সম্পর্কে ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়াই শ্রেয়। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও চিকিৎসা অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। মনে রাখবেন, সব টিউমার ক্যান্সার নয় এবং আধুনিক চিকিত্সায় বেশিরভাগ ক্যান্সারও নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই উপসর্গ দেখা দিলে লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আপনি একা নন – বহু নারী এ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন এবং সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন। পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন নিন এবং মনোবল দৃঢ় রাখুন। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে ডিম্বাশয় ক্যান্সারকেও পরাজিত করা যায়।